ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, নতুন বিতর্ক
Posted: 30 আগস্ট, 2026
একতা প্রযুক্তি ডেস্ক :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে কানাডার একটি ঘটনা। মেয়ের আত্মহত্যার প্রায় এক বছর পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক মা। তার অভিযোগ, আত্মঘাতী মানসিক অবস্থার বিভিন্ন ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, কানাডার মন্ট্রিয়ালের ২৪ বছর বয়সী ওয়েব ডেভেলপার অ্যালিস ক্যারিয়ার প্রথমদিকে প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে তিনি ব্যক্তিগত জীবন, একাকীত্ব, মানসিক চাপ এবং আত্মবিশ্বাসের সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। পরে তার ব্যবহৃত ডিভাইস পরীক্ষা করে দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে হওয়া অসংখ্য কথোপকথনের তথ্য পান তার মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ার। অভিযোগে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার চিন্তা ও মানসিক সংকট নিয়ে অ্যালিস অন্তত ৪০ বারেরও বেশি চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, তার মেয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও থেরাপি গ্রহণ করলেও ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে চ্যাটজিপিটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তার অভিযোগ, এআই মডেল সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া দিলেও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বা জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ওপেনএআই ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আলোচিত কথোপকথনগুলো একটি পুরোনো সংস্করণের এআই মডেলের মাধ্যমে হয়েছিল, যা বর্তমানে আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। একই সঙ্গে তারা জানায়, পরবর্তীতে ১৭০ জনেরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
মেয়ের মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন ক্রিস্টি ক্যারিয়ার। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে অন্য কোনো পরিবারে যেন না ঘটে, সে জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চ্যাটবটের ওপর অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরশীলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা নিয়ে এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিচ্ছেন। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।